স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বাংলাদেশি চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ ও ফেলোশিপের সুযোগ দিতে চীন ও পাকিস্তান তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে। চীন বাংলাদেশি চিকিৎসকদের ফেলোশিপে নেওয়ার পাশাপাশি দেশটির হাসপাতালগুলোতে তাদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশে এসে চিকিৎসকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনে চীনে নিয়ে গিয়েও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের ১৩৫ থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, চায়না তাদের দুয়ার খুলে দিয়েছে। আমাদের ডাক্তারদের বলছে ফেলোশিপ করানোর জন্য পাঠাতে। তাদের প্রতিটি হাসপাতালে যেন আমাদের ডাক্তারদের প্রবেশের সুবিধা থাকে। তারা এসে আপনাদের প্র্যাকটিক্যাল বা হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে। মাঝে মাঝে আমাদের ডাক্তারদেরও সেখানে নিয়ে গিয়ে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে।

পাকিস্তানের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, পাকিস্তানিরা বলেছে, এখান থেকে ক্যানসারের রোগী নিয়ে যাবে, তারা চিকিৎসা করবে। আবার এখানে এসে আমাদেরকে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবে।

থ্যালাসেমিয়া ও এইচআইভি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চিকিৎসার পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি করাও আপনাদের এখন সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। থ্যালাসেমিয়া কী হারে বাড়ছে, আপনারা আমার চেয়ে বেশি জানেন। আমি এখন গ্রামে গিয়ে মানুষকে বোঝাই, আর জনগণও বিষয়টি গ্রহণ করছে।

বিয়ের আগে বর-কনের থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, স্বামী ও স্ত্রী দুজনই থ্যালাসেমিয়ার বাহক হলে তাদের সন্তানের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বিয়ের আগে ছেলে ও মেয়ের রক্ত পরীক্ষা করানো উচিত। তিনি বলেন, আপনারা দয়া করে এখন বিয়ের আগে মেয়ে ও ছেলের ব্লাড টেস্ট করাবেন থ্যালাসেমিয়ার জন্য। এটা রক্তের মধ্যে পাওয়া যায়।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুধু চিকিৎসার মাধ্যমে সব রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়; জনগণের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। সন্তানদের স্বাস্থ্যের বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন করার পাশাপাশি চিকিৎসকেরা যেখানে যাবেন, সেখানেই মানুষকে থ্যালাসেমিয়া, এইচআইভি ও ছোঁয়াচে রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। হাত ধোয়া ও পরিচ্ছন্নতার মতো বিষয়েও জনসচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাক, কান ও গলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. হাসান জাফরের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version