আন্তর্জাতিক ডেস্ক : চলমান ইরান যুদ্ধ এবং সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনে বাধার কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যপণ্যের দাম গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) জানিয়েছে, এপ্রিল মাসে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ ছিল ভোজ্যতেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি।

মূলত ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক দেশ এখন ভোজ্যতেল দিয়ে বিকল্প জ্বালানি বা বায়োফুয়েল তৈরির দিকে ঝুঁকছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সাধারণ মানুষের রান্নার তেলের ওপর।

এফএও-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে বিশ্ব খাদ্য সূচক আগের মাসের চেয়ে ১.৬ শতাংশ বেড়েছে, যা ২০২৩ সালের শুরুর পর থেকে সর্বোচ্চ। বিশেষ করে সয়াবিন, সূর্যমুখী ও পাম তেলের দাম এক মাসেই প্রায় ৬ শতাংশ বেড়েছে। যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এছাড়া সার ও চাষাবাদের খরচ বেড়ে যাওয়ায় গবাদি পশুর মাংসের দামও এখন রেকর্ড উচ্চতায়।

তবে স্বস্তির খবর হলো, চাল, গম ও ভুট্টার মতো দানাদার শস্যের দাম খুব একটা বাড়েনি। গত মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ায় এসব শস্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে, যা বাজারকে বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা করেছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ও থাইল্যান্ডে প্রচুর ফলন হওয়ায় চিনির দাম গত মাসে কিছুটা কমেছে।

জাতিসংঘ আশা করছে, ২০২৫ সালে বিশ্বজুড়ে শস্যের উৎপাদন আরও বাড়বে, যা ভবিষ্যতে বাজারের অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে প্রয়োজনীয় অনেক খাদ্যপণ্য।

সূত্র: রয়টার্স।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version