রাজধানীর গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ। এ ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
সোমবার সকালে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান ডিএমপির যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন মো. সজীব (২৮), মো. হিমু (৩২), মো. তুষার (২৫), মো. জয় (২৫), মো. টুটুল (৩৩) ও মো. ইমরান (৩৪)।
পুলিশ জানায়, চট্টগ্রাম থেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে অবৈধ মাদক ঢাকায় আনা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ী থানা-পুলিশ মাতুয়াইল ইউটার্নসংলগ্ন মুক্তি পেট্রল পাম্পের সামনে চেকপোস্ট বসায়। পরে ঢাকা মেট্রো-গ-৩১-৩৬৪৬ নম্বরের একটি সাদা ব্যক্তিগত গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। গাড়িতে থাকা পাঁচজনকে আটক করা হলেও তাঁদের কাছ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মাদক পাওয়া যায়নি।
জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগ করাতিটোলা এলাকার একটি ফ্ল্যাটে মাদক থাকার কথা জানান। পরে সেখানে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সজীব ও হিমুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের খাটের নিচে রাখা প্লাস্টিকের ব্যাগ থেকে চারটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে একটি ব্যক্তিগত গাড়ি ও ছয়টি স্মার্টফোনও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার সজীবকে ওয়ারী বিভাগের শীর্ষ সন্ত্রাসী ও অস্ত্র-মাদকের কারবারে জড়িত হিসেবে পরিচিত সজল ওরফে অটো সজলের ছোট ভাই বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য, গত ২ মার্চ অবৈধ মাদক উদ্ধারের অভিযানের সময় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শককে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় মামলা হয়। তদন্তের একপর্যায়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে একটি ৯ এমএম পিস্তল, একটি ৩২ বোর রিভলবার, একটি ৭.৬৫ এমএম পিস্তল ও ২৩ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে ওই ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র সজল ওরফে অটো সজল সরবরাহ করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া যায়।
এরপর গত ১৮ জুন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকা থেকে সজলকে আটক করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গেন্ডারিয়ার স্বামীবাগে তাঁর ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে দুটি টরাস ব্র্যান্ডের পিস্তল, চারটি ম্যাগাজিন, ৭৭ রাউন্ড গুলি, ৫৯ গ্রাম হেরোইন, হেরোইন তৈরির উপকরণ, মাদক বিক্রির ২২ হাজার ৯৬০ টাকা ও চারটি ফোন উদ্ধার করা হয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
ওই ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে পৃথক দুটি মামলা করা হয়।
আজকের অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের সঙ্গে আগের অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
