ডেস্ক নিউজ : দক্ষিণ এশিয়ায় নারী-পুরুষ সমতায় শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ রিপোর্ট-২০২৬’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।
২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কাকে পেছনে ফেলার পর থেকে টানা ১২ বছর ধরে এই অঞ্চলে এক নম্বর স্থান ধরে রেখেছে ঢাকা।
গতকাল বুধবার প্রকাশিত সূচকটির ২০তম সংস্করণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে সার্বিক লিঙ্গ বৈষম্য কমে দাঁড়িয়েছে ৭১.২ শতাংশে, যা গত বছর ছিল ৭৭.৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে দেশে লিঙ্গসমতার সূচক কমেছে ৬.২ শতাংশ পয়েন্ট।
অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে মালদ্বীপ ৬৬.৯ শতাংশ সমতা নিয়ে ১১৯তম, নেপাল ৬৬.৯ শতাংশ নিয়ে ১২০তম, ভুটান ৬৬.৩ শতাংশ নিয়ে ১২১তম, শ্রীলঙ্কা ৬৪.৬ শতাংশ নিয়ে ১২৯তম এবং ভারত ৬৪.৫ শতাংশ সমতা নিয়ে ১৩১তম স্থানে রয়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম লিঙ্গসমতা থাকা দেশ পাকিস্তান। বিশ্বেও দেশটির অবস্থান তৃতীয় সর্বনিম্ন। দেশটি তার লিঙ্গবৈষম্যের ৫৯.৫ শতাংশ কমাতে পেরেছে। তবে ২০২৫ সালের তুলনায় পাঁচ ধাপ এগিয়েছে পাকিস্তান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ ক্ষেত্রটিই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে দুর্বল জায়গা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ খাতে বৈষম্য দূর হয়েছে ৪১.৯ শতাংশ, যা আগের বছরে ছিল ৪৫.৭ শতাংশ।
কাজের ক্ষেত্রে অর্জিত আনুমানিক আয়, শ্রমশক্তিতে নারীদের মোট অংশগ্রহণ এবং উচ্চপদস্থ নেতৃত্বে নারী কর্মী কমে যাওয়ার কারণে এই পতন হয়েছে। এই তিনটি ক্ষেত্রে যথাক্রমে ১৫, ৫.৭ এবং ১.৩ শতাংশ পয়েন্ট সমতা কমেছে।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন খাতে গত বছর বিশ্বের ৩ নম্বরে থাকলেও এবার বাংলাদেশ নেমে গেছে ১২তম স্থানে। এই খাতে অর্জিত সমতার হার ৫০.৯ শতাংশ। বিশেষ করে সংসদে প্রতিনিধিত্বের সমতার হার পরিমাপের পুরো মেয়াদের মধ্যে সর্বনিম্নে (২.৪ শতাংশ) নেমে এসেছে।
এদিকে, বৈশ্বিক লিঙ্গসমতা সূচকে টানা ১৭তম বছরের মতো শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দেশটি তার লিঙ্গবৈষম্যের ৯৩ শতাংশ কমিয়েছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি লিঙ্গসমতা অর্জন করা একমাত্র দেশ হিসেবে রয়েছে।
ফিনল্যান্ড ৮৭.২ শতাংশ এবং নরওয়ে ৮৫.৭ শতাংশ সমতা নিয়ে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে এবং টানা তৃতীয় বছর ধরে দেশ দুটি একই অবস্থান ধরে রেখেছে। আর বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৭৯তম।
ডব্লিউইএফের এই সূচকে চারটি প্রধান ক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য পরিমাপ করা হয়—অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ ও সুযোগ, শিক্ষাগত অর্জন, স্বাস্থ্য ও আয়ু এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন। ক্ষেত্রগুলোর অধীনে ১৪টি ১৪টি উপ-সূচকের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়।
