আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতে নির্মীয়মাণ কথিত পারমাণবিক কেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি দিয়েছেন। হরমুজ প্রণালিতে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই এই নতুন ঘোষণা এল। ‘কুহ-এ কোলং গাজ লা’ নামে পরিচিত এই কেন্দ্রটি তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে নাতানজ পারমাণবিক কেন্দ্রের পাশে পাহাড়ের গভীরে অবস্থিত। ২০২৫ সালে ইরান ও ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সময় মার্কিন হামলায় নাতাঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পিকঅ্যাক্স পর্বতের এই গভীর কেন্দ্রটি অক্ষত ছিল।

হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প স্বীকার করেছেন, ইরান হয়ত পাহাড়ের অত গভীরে সেনট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী বোমার ধ্বংসক্ষমতাকেও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। তা সত্ত্বেও খুব শীঘ্রই সেই এলাকায় হামলা চালানো হবে বলে দাবি করেন তিনি। তবে পিকঅ্যাক্স পর্বতের কেন্দ্রটিতে আসলে কী রাখা হয়েছে তা এখনও অস্পষ্ট, কারণ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা এখনও সেখানে প্রবেশের সুযোগ পায়নি।

প্রায় ২.৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটি ঘিরে রয়েছে বিমান বিধ্বংসী কামান, নিরাপত্তা বেষ্টনী এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর। উপগ্রহ চিত্রে দেখা একাধিক প্রবেশপথ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এই সুবিধাজনক কেন্দ্রটি মাটির অন্তত ১০০ মিটার গভীরে অবস্থিত। ২০২০ সালে নাতাঞ্জ কেন্দ্রে বিস্ফোরণের পর ইরান পাহাড়ের গভীরে এই আধুনিক ও বিশাল কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শুরু করে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভূগর্ভস্থ এই সুরক্ষার সুযোগ নিয়ে ইরান সেখানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ এবং সেনট্রিফিউজ তৈরির কাজ চালাতে পারে।

ইরানের এই ধরনের গভীর ভূগর্ভস্থ সামরিক ও পারমাণবিক আস্তানাগুলো ধ্বংস করতেই যুক্তরাষ্ট্র তৈরি করেছিল ‘জিবিইউ-ফিফ্টি সেভেন’ বোমা, যা মাটির অন্তত ৬০ মিটার গভীরে গিয়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে সক্ষম। মার্কিন কর্মকর্তারা আগে পর পর দুটি এমন বোমা ফেলে গভীর লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করার কৌশল নিয়ে আলোচনা করলেও পিকঅ্যাক্স পর্বতের মতো গভীর কোনো কেন্দ্র আদৌ এই বোমায় ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকে যাচ্ছে।

Share.
Leave A Reply

Exit mobile version