ডেস্ক নিউজ : বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া দেশের অন্য সব শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণকারী এই সংস্থাটি বলছে, অতিবৃষ্টিজনিত বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত থাকলেও অন্যান্য বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষাকেন্দ্র পরীক্ষা গ্রহণের উপযোগী রয়েছে।
সোমবার রাতে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, ‘চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-কে কেন্দ্র করে বিরূপ আবহাওয়ার মধ্যেও কেন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে-এ বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীর উদ্বেগ ও প্রশ্ন আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এই উদ্বেগকে আমরা আন্তরিকভাবে উপলব্ধি করি এবং এ বিষয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সকলের জ্ঞাতার্থে জানাতে চাই।
২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা দেশের সকল শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে ২৬৯৭টি কেন্দ্রে মোট ১২৭০৫৮৩ জন পরীক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এবং সকল পরীক্ষার্থী আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তবে অতিবৃষ্টিজনিত বন্যায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং পরীক্ষার্থীদের নিরাপদে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে না পারার কারণে শুধু চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাস্তব পরিস্থিতি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং জেলা প্রশাসকদের মতামতের প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডের অধিকাংশ পরীক্ষা কেন্দ্র কার্যক্রম পরিচালনার উপযোগী রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে পরীক্ষা গ্রহণের পরিবেশ বিদ্যমান রয়েছে মর্মে স্থানীয় প্রশাসন প্রতিবেদন প্রেরণ করেছেন। উক্ত প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী অন্যান্য বোর্ডের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অপ্রত্যাশিতভাবে আজ ১৩/০৭/২০২৬ সকালে বিরূপ আবহাওয়ার কারণে কিছু কেন্দ্রে বিশেষ করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ, কুমিল্লা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় প্রশাসন, কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা যথাসময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে সক্ষম হয়। ১২৭০৫৮৩ জন শিক্ষার্থীর পরীক্ষার প্রস্তুতি উপলব্ধি করে এবং পরীক্ষা বারবার স্থগিত করা হলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন, ফলাফল প্রকাশ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি কার্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষা ক্যালেন্ডার ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে অভিন্ন প্রশ্নপত্র ব্যবস্থায় একটি বোর্ডের কারণে সকল বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত রাখাও বাস্তবসম্মত নয়।
তবে কোনো অঞ্চলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বা পরীক্ষা গ্রহণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। আমাদের কাছে শিক্ষার্থীদের জীবন ও নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
অনুগ্রহ করে শিক্ষা বোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করুন। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাতায়াতের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সময় হাতে নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে রওনা হওয়ার অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নে পরীক্ষা সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।’
