আন্তর্জাতিক ডেস্ক :জার্মানির উত্তরাঞ্চলীয় স্টেড শহরে গোলাগুলিতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। আজ সোমবার সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, উত্তর জার্মানির স্টেড শহরের একটি যুবকল্যাণ কেন্দ্রে গোলাগুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এই গোলাগুলিতে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এসময় তারা অভিযুক্ত হামলাকারীসহ দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে।
বর্তমানে এলাকাটি নিরাপদ এবং জনসাধারণের জন্য কোনো হুমকি নেই। জনসাধারণকে ওই এলাকা এড়িয়ে চলার অনুরোধ করেছে বলে সিএনএনকে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় কাউন্সিলর কার্স্টেন ব্রোকেলম্যান বলেন, ‘যেখানে গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটেছে, তার ঠিক পাশেই শহর কর্তৃপক্ষ একটি দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা করে।’
তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা স্বস্তি পেয়েছি যে আমাদের দিবাযত্ন কেন্দ্র এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কর্মী ও শিশুরা সবাই নিরাপদ ও সুস্থ আছে এবং এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে তাদের সেবার জন্য আমি পুলিশ কর্মকর্তাদের ধন্যবাদ জানাতে চাই।’
ব্রোকেলম্যান বলেন, ‘একই সাথে এই ভয়াবহ ঘটনার শিকার এবং তাদের পরিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা রইল।’
এদিকে পুলিশ সতর্ক করেছে, ঘটনাটি সম্পর্কে যাচাইবিহীন তথ্য অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে এবং জনগণকে কোনো গুজব না ছড়াতে অনুরোধ করেছে। কারণ এটি তদন্তে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
হামবুর্গ থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার (২৭ মাইল) পশ্চিমে অবস্থিত স্টেড প্রায় ৫০,০০০ মানুষের একটি ঐতিহাসিক শহর।
জার্মানিতে গণগুলিবর্ষণের ঘটনা বিরল। দেশটিতে বন্দুক মালিকানার কঠোর আইন রয়েছে এবং এর জন্য লাইসেন্স আবশ্যক। বন্দুক রাখার অনুমতি পেতে হলে বাসিন্দাদের নিজেদের নির্ভরযোগ্যতা প্রমাণ করতে হয়, একটি প্রশিক্ষণ কোর্স ও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয় এবং অস্ত্র রাখার প্রয়োজনীয়তাও প্রমাণ করতে হয়।
জার্মান সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ৮৩ মিলিয়ন জনসংখ্যার এই দেশটিতে প্রায় ৯ লাখ ২৯ হাজার মানুষের কাছে ৩০ লাখের বেশি বন্দুক রয়েছে।
