ডেস্ক নিউজ : রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় যুব মহিলা লীগের নেত্রী মোসা. শিল্পী বেগমকে (৩৭) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে আসামিকে হাজির করা হলে বিচারক আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জুনাইদ তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শিল্পী বেগম ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুব মহিলা লীগের নেত্রী।
মঙ্গলবার বেলা সোয়া ৩টার দিকে আদালতের চারতলায় দেখা যায়, ৪৬ দিন বয়সী এক শিশুকে স্তন্যপান করাচ্ছেন শিল্পী বেগম। পুলিশ যখন তাকে হাজতখানায় নিয়ে যেতে উদ্যত হয়, তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় উপস্থিত আইনজীবী ও আত্মীয়-স্বজনদের সাথে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। শেষ পর্যন্ত কোলের শিশুকে নিয়েই তাকে আদালতের হাজতখানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী আদালতে জামিন আবেদন করে বলেন, আসামির কোলে মাত্র ১ মাস ১৬ দিনের শিশু। সিজারের মাধ্যমে সন্তান জন্মদানের পর মা ও শিশুর নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রয়োজন। মানবিক দিক বিবেচনায় জামিন চাওয়া হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি, যা মা ও শিশুর মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালীন শিল্পী বেগমের বিরুদ্ধে হামলা ও লুণ্ঠনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তাহমিদ মুবিন রাতুল গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় শিল্পী বেগমের নাম আসে। এছাড়া ২৩ জুলাই তার নির্দেশেই ১২০-১৩০ জন সশস্ত্র ব্যক্তি রাতুলের বাসায় হামলা, ভাঙচুর ও লুণ্ঠন চালায়। হামলার সময় বাসার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ও মারধর করে প্রায় ৮ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই শেখ নজরুল ইসলাম বলেন, আসামিকে আন্দোলন দমনে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গেছে এবং তদন্তের স্বার্থে তাকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২০ এপ্রিল নিজ বাসা থেকে ওই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
