ক্রীড়া ডেস্ক : বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর সবচেয়ে আকর্ষণীয় লড়াইগুলোর একটিতে বাংলাদেশ সময় আজ রাত ২টায় নরওয়ের মুখোমুখি হবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেলেসাওদের সামনে থাকছে আরও একটি বড় লক্ষ্য—ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নরওয়েকে হারানো।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত চারবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। সেখানে দুটি ম্যাচ জিতেছে নরওয়ে, বাকি দুটি ড্র হয়েছে। অর্থাৎ, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিল এখনও পর্যন্ত নরওয়ের বিপক্ষে জয়ের দেখা পায়নি। ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে নরওয়ের ২-১ গোলের জয় এখনও দুই দলের লড়াইয়ের সবচেয়ে স্মরণীয় অধ্যায়।
তবে অতীতের পরিসংখ্যান ভুলে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠে নামবে কার্লো আনচেলত্তির দল। ১৯৯০ সালের পর প্রতিটি বিশ্বকাপেই শেষ ষোলো পেরিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে ব্রাজিল। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় তারা।
ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারেন আর্লিং হালান্ড। অভিষেক বিশ্বকাপেই দুর্দান্ত ছন্দে থাকা নরওয়ের এই স্ট্রাইকার চার ম্যাচে পাঁচ গোল করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে অন্যতম দাবিদার। তার সঙ্গে মাঝমাঠে মার্টিন ওডেগার্ড এবং উইংয়ে আন্তোনিও নুসার উপস্থিতি নরওয়ের আক্রমণকে আরও ভয়ংকর করে তুলেছে।
অন্যদিকে, আক্রমণে কম শক্তিশালী নয় ব্রাজিলও। ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ইতোমধ্যে চার গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্ট করেছেন। মাতেউস কুনিয়ার ঝুলিতে রয়েছে তিনটি গোল। ফলে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভাঙার মতো একাধিক অস্ত্র রয়েছে আনচেলত্তির হাতে।
চলতি আসরে নরওয়ে চার ম্যাচে ১০ গোল করলেও হজম করেছে আটটি। বিপরীতে ব্রাজিল পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র দুটি গোল খেয়েছে। শেষ বত্রিশে জাপানের বিপক্ষে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয় জয় তুলে নেওয়ায় আত্মবিশ্বাস আরও বেড়েছে সেলেসাওদের।
কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে ব্রাজিলকে শুধু নিজেদের আক্রমণাত্মক ফুটবলই খেললেই হবে না, একই সঙ্গে হালান্ডকে আটকে রাখার কঠিন পরীক্ষাও উতরে যেতে হবে। অন্যদিকে, নরওয়ে চাইবে ব্রাজিলের বিপক্ষে নিজেদের অপরাজিত থাকার রেকর্ড অক্ষুণ্ন রেখে আরেকটি ইতিহাস গড়তে।
