বিনোদন ডেস্ক : বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচনে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন চিত্রনায়িকা পলি। অভিযোগ তোলেন নির্বাচনে তাকে হারানোর জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হয়েছে এবং পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অর্থের প্রভাব ছিল স্পষ্ট।
গত শুক্রবার অনুষ্ঠিত শিল্পী সমিতির নির্বাচনে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেল থেকে আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন পলি। এ পদে বিজয়ী হয়েছেন পারভেজ চৌধুরী আবির। তিনি পেয়েছেন ২৭২ ভোট, আর পলি পেয়েছেন ১৪৪ ভোট।
নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর গুলশানে নিজ বাসায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পলি বলেন, ‘আমাকে হারানোর জন্য লাখ লাখ টাকা খরচ করা হয়েছে। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, প্রকৃত শিল্পীরা কখনো টাকা ছিটিয়ে নির্বাচন করেন না। এবারের নির্বাচনে প্রকৃত শিল্পীরাই হেরেছেন। রোজিনা আপা, নূতন আপা, রিনা খান আপা, মুক্তির মতো প্রকৃত শিল্পীরা পরাজিত হয়েছেন। তাদের সঙ্গে আমিও রয়েছি।’
নির্বাচনে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ তুলে তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পলির ভাষ্য, ‘যারা টাকা দিয়েছে এবং যারা টাকা নিয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হোক। আমি ঢাকা-১৭ আসনের একজন ভোটার। দেশের জনগণের ভোটেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন, সেখানে আমারও একটি ভোট রয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রসসঙ্গে পলি জানান, এবারের নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার কোনো পরিকল্পনা ছিল না তার। তবে শিবা শানু-জয় চৌধুরী প্যানেলের প্রার্থী সনি রহমানের অনুরোধে তিনি নির্বাচনে অংশ নেন।
বলেন, ‘আমাকে প্যানেলে নেওয়ার পর থেকেই নানা ধরনের নাটক শুরু হয়। শুরুতে একজন নায়িকাকে প্যানেলে নেওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করা হয়, পরে শুরু হয় চাঁদাবাজি। নির্বাচনী খরচের কথা বলে আমার কাছে সহযোগিতা চাওয়া হয়। আমি প্রথমে তিন লাখ টাকা দিই। পরে শিল্পীদের বিভিন্ন সহযোগিতার জন্য আরও দুই লাখ টাকা খরচ করি। এটি ভোট কেনার জন্য নয়, বিভিন্ন হেল্পারের খরচ হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। নায়িকা জলি নিজেও আমাকে জানিয়েছে, সেও টাকা এনে দিয়েছে।’
সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে পলি বলেন, ‘যে দেশে ১৫ বছর পর একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে, সেখানে শিল্পী সমিতিতে কেন সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না? যারা নির্বাচনে টাকা ছিটিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হোক। প্রয়োজন হলে রিমান্ডে নিয়ে তদন্ত করা হোক, যাতে প্রকৃত সত্য সবার সামনে আসে।’
সবশেষে নায়িকা বলেন, ‘এখন শিল্পী সমিতির ওই চেয়ার নিয়ে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমি শুধু চাই সত্যটা প্রকাশ হোক। তা না হলে প্রকৃত শিল্পীরা ফাইটার ও নাচের শিল্পীদের কাছে জিম্মি হয়ে থাকবে। ভবিষ্যতে প্রকৃত শিল্পীরা আর শিল্পী সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী হবেন না।’
