আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সেনাবাহিনী বা সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াবেন না বলে জানিয়েছেন তার দলের শীর্ষ এক নেতা। পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) মুখপাত্র ও ইমরানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী জুলফিকার বুখারি এ ইঙ্গিত দিয়েছেন।
বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বুখারি জানান, শীর্ষ আদালতের আইনি অগ্রগতির পর দেশের বৃহত্তর স্বার্থে অতীত ভুলে সমঝোতার পথ বেছে নিতে পারে পিটিআই। ইমরান খানকে ‘মহানুভাব’ হিসেবে উল্লেখ করে বুখারি বলেন, ইমরান খান কাল মুক্তি পেলে দেশের ক্ষতি হয় এমন কিছু করবেন না। এর মানে এই নয় যে আপনাকে প্রতিষ্ঠানের বা সামরিক প্রধানের মুখোমুখি হতে হবে। দেশের ভালোর জন্য নিজের ক্ষোভ ও কষ্ট চেপে রাখতে হয়।
মঙ্গলবার পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ৭৩ বছর বয়সী ইমরান খানকে কারাগার থেকে বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেয়। এই রায়কে সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পিটিআই-এর মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক উত্তেজনা কমানোর একটি প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। বুখারি এই সিদ্ধান্তকে ‘নতুন আশার আলো’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আরও বলেন, সেনাপ্রধান যদি অভিভাবকের মতো ভূমিকা পালন করেন এবং ‘সহানুভূতির হাত’ বাড়িয়ে দেন, তবে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব রাজনৈতিক বন্দি মুক্তি পেতে পারেন।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কারাগারে থাকা ইমরানের নিজের চিন্তাভাবনা বুখারিদের মতো সহযোগীদের চেয়ে ভিন্ন হতে পারে। কারণ গত নভেম্বরেও সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে মারাত্মক নিপীড়নের অভিযোগ এনে ইমরান খান শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত মাথা নত না করার বার্তা দিয়েছিলেন। তা ছাড়া আট মাস ধরে পিটিআই নেতারা ইমরানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ পাননি।
জুলফিকার বুখারির এ বক্তব্যের বিষয়ে পাকিস্তান সরকার বা দেশটির সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এদিকে আইনি লড়াই ও ইমরান খানকে হাসপাতালে স্থানান্তরের খবরের মধ্যেই সেপ্টেম্বর থেকে দেশজুড়ে বড় ধরনের রাজপথের আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছে পিটিআই। দলটির দাবি, রাজনৈতিক কারণে আটক ইমরান খানকে পূর্ণ মুক্তি দেওয়ার পাশাপাশি তার সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
